নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় কথিত “বাপ্পি-ফরিদ গ্যাং”-এর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাংটির সদস্যরা প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসলেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এতে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ মাহবুব হোসেন (২২), পিতা-মোঃ শওকাত গাজী, সাং-দাড়িয়ালা, ডাকঘর-উকশা, থানা-কালিগঞ্জ, জেলা-সাতক্ষীরা শ্যামনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ মে ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে মাহবুব হোসেন তার নিজ মালিকানাধীন মোটরসাইকেলযোগে শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের আবাদ চন্ডিপুর পানখালী এলাকায় আত্মীয়তার সূত্রে পরিচিত সাইজুল ইসলামের বাড়িতে দাওয়াতে যান। তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ছিল একটি কালো রঙের হিরো স্প্লেন্ডার মোটরসাইকেল (রেজি নং- সাতক্ষীরা-হ-১৯-১২২৫)।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, রাত আনুমানিক পৌনে ৯টার দিকে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিতভাবে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। এসময় তারা ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে মাহবুব হোসেনের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, একটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন, মোঃ মাসুদ রানা বাপ্পী (৩০), পিতা: আনছার আলী গাজী; নুর হোসেন (৩৫); রাফিদ (২৮), পিতা: কামাল হোসেন; মহিবুল্লাহ (৩৫); আজমল (৩৩); ফরিদ (৩২) হারুন (৩০) তাদের সকলের বাড়ি শ্যামনগর থানার মুনসুর সরদারের গ্যারেজ এলাকায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদক সেবন এবং ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া চুরি, ছিনতাই, দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও নারী কেলেঙ্কারিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, “তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললেই সংঘবদ্ধভাবে হামলা ও হয়রানির শিকার হতে হয়।”
ঘটনার সময় স্থানীয় গ্রামবাসী ও বাড়ির লোকজন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা নিজেদের পুলিশ পরিচিত বলে দাবি করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি থানায় ফোন করার ভান করে স্থানীয়দের বিভ্রান্ত করারও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্তপূর্বক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
ভুক্তভোগী জানান, উক্ত ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে তিনি শ্যামনগর থানা-এ একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগটি বর্তমানে থানার এএসআই জাকির হোসেন তদন্তপূর্বক আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণের জন্য অনুসন্ধান করছেন।