তুষার কান্তি হাওলাদার পাথরঘাটা বরগুনা
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার উপকূলীয় জনপদকে নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে স্থায়ীভাবে রক্ষার দাবিতে বালুর বস্তার পরিবর্তে সিমেন্টের কংক্রিট ব্লক দিয়ে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৭/০৭/২৬) সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের পাঁঠাচরা এলাকার ভাঙা বেড়িবাঁধের ওপর ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, কৃষক, জেলে, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ২০০৭ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর থেকে পাথরঘাটার উপকূলীয় এলাকা বারবার নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হচ্ছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এবং ঘূর্ণিঝড়ের সময় বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হাজার হাজার পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছে। বসতবাড়ি, ফসলি জমি, মাছের ঘের, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বারবার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ভাঙন রোধে দীর্ঘদিন ধরে বালুর বস্তা ফেলে অস্থায়ীভাবে বেড়িবাঁধ মেরামত করা হলেও তা কখনোই স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি। প্রতিটি জলোচ্ছ্বাস ও দুর্যোগের পর বালুর বস্তার বাঁধ ধসে পড়ে এবং সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও জনগণের দুর্ভোগ কমে না। ফলে একই স্থানে বারবার মেরামত করতে হচ্ছে, যা সময় ও অর্থ—উভয়েরই অপচয়।
তারা বলেন, এখন সময় এসেছে অস্থায়ী সমাধান থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর, টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের। বালুর বস্তার পরিবর্তে সিমেন্টের কংক্রিট ব্লক ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বেড়িবাঁধ নির্মাণ করলে নদীর তীব্র স্রোত, জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত অনেক বেশি সহনশীলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে উপকূলীয় জনপদের মানুষের জীবন, সম্পদ ও কৃষি উৎপাদন দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত থাকবে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত প্রকল্প গ্রহণ করে সিমেন্টের কংক্রিট ব্লক দিয়ে স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানান। তারা বলেন, উপকূলবাসীর জীবন রক্ষার এই দাবিকে আর অবহেলা করা যাবে না।
বক্তারা আরও বলেন, উপকূল বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৃষি ও মৎস্যসম্পদের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। তাই এই অঞ্চলকে নিরাপদ রাখতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে শক্তিশালী বেড়িবাঁধ নির্মাণ এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি। অন্যথায় প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে জানমাল ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি অব্যাহত থাকবে।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান এবং "বালুর বস্তা নয়, সিমেন্টের কংক্রিট ব্লক দিয়ে টেকসই বেড়িবাঁধ চাই", "উপকূল বাঁচলে দেশ বাঁচবে" ইত্যাদি স্লোগান দেন।