নিজস্ব প্রতিবেদক, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা):
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাশিবাটি এলাকায় তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধারের পর সন্দেহভাজন এক নারীকে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সোমবার গভীর রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) শেখ জয়নুদ্দিন, পিপিএম।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার নলতা গ্রামের বাসিন্দা এনামুল ইসলামের মেয়ে ও কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ফারজানা খানম (৮) সোমবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে বিদ্যালয়ে যায়। পরে সে বিদ্যালয়ের পাশে ঝালমুড়ি ব্যবসায়ী সুমাইয়া বেগমের (২৬) বাড়িতে যায় বলে স্থানীয়রা জানান।
দুপুরে প্রতিদিনের মতো খাবারের জন্য বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা ফারজানাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন সুমাইয়া বেগমের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ঘরের একটি আলমারির ড্রয়ার থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনতা সুমাইয়া বেগমকে গণপিটুনি দিলে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ জয়নুদ্দিন রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। তিনি পৃথক দুটি ঘটনার আইনানুগ তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন এবং স্থানীয় জনগণকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানান।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরিদর্শন ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পর এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন হবে।