সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শ্যামনগর উপজেলা অনলাইন নিউজ ক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু, শোকাহত পরিবারের পাশে লংগদু ইউ এনও দেশব্যাপী হত্যা, শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও মব সহিংসতার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন খুলনা নিউমার্কেটের সামনে দুই গাড়ির সংঘর্ষ, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন আরোহীরা পটুয়াখালী দুর্গোৎসব উপলক্ষে দুঃস্থ নারী-পুরুষের মাঝে বস্ত্র বিতরন পুলিশ সুপারের বিভিন্ন পূঁজা মন্ডপ পরিদর্শন জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যশোরের পৃথক পৃথক অভিযানে ১৫০(একশত পঞ্চাশ) পিচ অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট সহ ০৩ জন আটক। রাজশাহী জেলার ডিবি পুলিশ কর্তৃক অভিযানে অবৈধ মাদকদ্রব্য ৪৭ বোতল ESkuf উদ্ধারসহ ০১ জন গ্রেফতার দুর্গোৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য পূজামন্ডপ সমূহে পাহারা দিতে হবে — এমপি আলতাফ হোসেন চৌধুরী আশুলিয়ায় জাল নোট উদ্ধার, দুইজন গ্রেফতার

‎সাংবাদিক গেলেন জেলের ছদ্মবেশে, পুলিশ নিলো ঘুষ

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬
  • ৫৬ বার পড়া হয়েছে

‎তুষার কান্তি হাওলাদার পাথরঘাটা বরগুনা।
‎
‎বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় বলেশ্বর ও বিষখালী নদীতে চলাচলকারী মাছ ধরার ট্রলার ও পণ্যবাহী নৌযান থেকে নিয়মিত চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে চরদুয়ানী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে। চাঁদা না দিলে দেওয়া হচ্ছে মিথ্যা মামলা ও নানা ধরনের প্রশাসনিক হয়রানি। অনুসন্ধানে গিয়ে এই চাঁদা দাবির মুখোমুখি হয়েছেন ছদ্মবেশী এক সাংবাদিকও, যার দৃশ্য গোপন ক্যামেরায় বন্দি হয়েছে।
‎
‎বিজ্ঞাপন
‎
‎স্থানীয় জেলেদের কাছ থেকে জানা যায়, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীতে মাছ শিকার করে তাদের সংসার চলে। মহাজন ও এনজিওর চড়া সুদের ঋণ শোধ করতেই যেখানে জেলেরা হিমশিম খাচ্ছেন, সেখানে নৌ-পুলিশের বেপরোয়া চাঁদাবাজি নতুন আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিয়ম করে, প্রতি মাসে ট্রলার ও ছোট জাহাজ প্রতি দুই থেকে তিন হাজার টাকা মাসোহারা না দিলে জেলেদের বিরুদ্ধে সাজানো মামলার হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সাধারণ জেলের ছদ্মবেশে অনুসন্ধানে নামেন সাংবাদিক তাওহীদুল ইসলাম শুভ। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে তিনি নিজেই নৌ-পুলিশের চাঁদাবাজির শিকার হন। চরদুয়ানী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই কবির হোসেন সরাসরি ও বিকাশের মাধ্যমে লেনদেন করেন, যা গোপন ক্যামেরায় বন্দি হয়।
‎
‎এছাড়াও সংগৃহীত অডিও রেকর্ডে এএসআই কবিরকে দাবি করতে শোনা যায়, এই চাঁদাবাজির টাকার ভাগ ইনচার্জসহ ফাঁড়ির সবাই পেয়ে থাকেন।
‎
‎ভুক্তভোগী আজাদ ও সোহেল আরো অনেক জেলে ও জাহাজ মাঝিরা জানান, নদীতে মাছ ধরতে নামলেই পুলিশি হয়রানির ভয়ে তাদের তটস্থ থাকতে হয়। চাঁদা না দিলে ট্রলার জব্দ ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানো হয়, যার ফলে তারা চরম বাধ্য হয়েই টাকা দিতে বাধ্য হন।
‎
‎ছদ্মবেশী সাংবাদিক তাওহীদুল ইসলাম শুভ বলেন, জেলেরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করছিলেন যে নৌ-পুলিশ তাদের ওপর জুলুম করছে। সত্যতা নিশ্চিত করতেই আমি জেলের ছদ্মবেশে অনুসন্ধানে নামি। ফাঁড়ির এএসআই কবির হোসেন সরাসরি টাকা দাবি করেন এবং বিকাশের মাধ্যমে টাকা নেন। টাকা না দিলে নদীতে কোনো ট্রলার চলতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
‎এ বিষয়ে ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, নৌ-পুলিশের অসাধু কর্মকর্তাদের কারণে সাধারণ জেলে ও ট্রলার মালিকরা আজ দিশেহারা। আমরা ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থার দাবি করছি।
‎
‎ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য নিতে গেলে সাংবাদিকের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ফাঁড়ির সদস্যরা এবং ভিডিও ধারণে বাধা প্রদান করেন। তবে চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে চরদুয়ানী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. গজ গভীর মিয়া জানান, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‎
‎পাথরঘাটা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক জানান, জেলেদের কাছ থেকে নৌ-পুলিশের টাকা নেওয়ার অভিযোগ তিনি এর আগেও একাধিকবার পেয়েছেন। তবে এবার ভিডিও প্রমাণ মেলায় বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে জেলেদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‎

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews