
নিজস্ব প্রতিবেদক,
সাতক্ষীরার কালারোয়া উপজেলার ছোট রাজনগর দাখিল মাদ্রাসায় (EIIN-118722) নৈশ প্রহরী ও অফিস সহায়ক পদে নিয়োগে সুপার ও সভাপতির যোগসাজশে গোপনে স্বজনদের নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক ভুক্তভোগী।
গত ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দায়ের করা অভিযোগপত্রে অভিযোগকারী মো: ফিরোজ আলম, পিতা মৃত মতিয়ার রহমান, গ্রাম- গাইকপাড়া, ডাকঘর- কামরালি, কালারোয়া, জানান, গত ২৬/০৩/২০২৬ তারিখে ওই মাদ্রাসায় শূন্য পদে নৈশ প্রহরী ও অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে অফিস সহায়ক পদে তার স্ত্রী জাকিয়া সুলতানার জন্য আবেদন করেন।
পরবর্তীতে বিশ্বস্ত সূত্রে তিনি জানতে পারেন, উক্ত পদে মাদ্রাসার সুপার সাহেব তার নিজ কন্যা ও নাতনীর নামে আবেদন দাখিল করেছেন। নৈশ প্রহরী পদে সভাপতি সাহেবের ভাইসহ ৪টি এবং অফিস সহায়ক পদে তার স্ত্রী এবং সুপার সাহেবের মেয়ে ও নাতনীসহ মোট ০৩ টি আবেদন জমা ও বাছাইয়ের পর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ মন্ত্রণালয়ে প্রতিনিধির জন্য আবেদন দাখিল করেছেন।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, সুপার সাহেব উক্ত মাদ্রাসায় নিজে এবং তার ভাবি তাসলিমা খাতুন সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি করেন। এর আগে ২০২০ সালে তিনি তার নিজের মেয়েকে আয়া পদে এবং জামাতাকে নিরাপত্তা কর্মী পদে নিয়োগ দিয়েছেন। উক্ত নিয়োগ বোর্ডে তিনি নিজেই সম্পাদক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, যা সরকারি নিয়োগ বিধির পরিপন্থি।
এলাকাবাসী এই অনিয়মের কারণে উক্ত মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী ভর্তি করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছে বলেও অভিযোগে বলা হয়। সম্প্রতি সুপার সাহেব তার মেয়ের নিয়োগ সম্পন্ন করার জন্য আগের ০৩ জন আবেদনকারীর স্থলে অন্য আবেদন বা অতিরিক্ত আবেদন জমা নিয়ে অধিদপ্তরে দাখিল করার কার্যক্রম চালাচ্ছেন। একইভাবে সভাপতি সাহেবও তার আপন ভাইকে নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগের তদবির করছেন, যার ফলে এলাকায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
তাই উল্লেখিত অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক সরকারি নিয়োগ বিধি যথাযথ অনুসরণ করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি মুক্তভাবে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য মহাপরিচালকের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।