সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দেশব্যাপী হত্যা, শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও মব সহিংসতার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন খুলনা নিউমার্কেটের সামনে দুই গাড়ির সংঘর্ষ, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন আরোহীরা পটুয়াখালী দুর্গোৎসব উপলক্ষে দুঃস্থ নারী-পুরুষের মাঝে বস্ত্র বিতরন পুলিশ সুপারের বিভিন্ন পূঁজা মন্ডপ পরিদর্শন জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যশোরের পৃথক পৃথক অভিযানে ১৫০(একশত পঞ্চাশ) পিচ অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট সহ ০৩ জন আটক। রাজশাহী জেলার ডিবি পুলিশ কর্তৃক অভিযানে অবৈধ মাদকদ্রব্য ৪৭ বোতল ESkuf উদ্ধারসহ ০১ জন গ্রেফতার দুর্গোৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য পূজামন্ডপ সমূহে পাহারা দিতে হবে — এমপি আলতাফ হোসেন চৌধুরী আশুলিয়ায় জাল নোট উদ্ধার, দুইজন গ্রেফতার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযানে ঢাকা জেলার ডিবি (উত্তর) কর্তৃক ৫২ (বায়ান্ন) কেজি গাঁজাসহ ০১ (এক) জন পেশাদার মাদক কারবারী গ্রেফতার এবং০১ টি মাদক বহনকারী পিকআপ গাড়ী ‍উদ্ধার। ফরিদপুর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২০ মা’মলার আ’সামি শিল্পী রানী গাঁ’জাসহ গ্রে’ফতার ।

‎মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, প্রকৃতি বাঁচাতে জেলেদের ঘরে ফেরার পালা ‎

  • প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৫৯ বার পড়া হয়েছে

‎তুষার কান্তি হাওলাদার পাথরঘাটা বরগুনা
‎
‎নদী ও সাগরের বুকজুড়ে জীবনের সঙ্গে লড়াই করে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন উপকূলের জেলেরা। কখনো উত্তাল ঢেউ, কখনো বৈরী আবহাওয়া—সবকিছু উপেক্ষা করে পরিবারে স্বচ্ছলতা ফেরানোর আশায় সাগরে ছুটে যান তারা। সেই জেলেদেরই এখন আবার ফিরতে হবে ঘরে। কারণ, সামনে মা ইলিশ রক্ষার ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা।
‎
‎মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে আগামী ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ বন্ধ থাকবে। একই সময়ে ইলিশ পরিবহন, মজুত, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ও নিষিদ্ধ থাকবে।
‎
‎ইলিশ শুধু একটি মাছ নয়; নদী ও সাগরের জলজ প্রতিবেশ এবং উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশকে নিরাপদ পরিবেশ দেওয়া গেলে ভবিষ্যতে নদী-সাগরে ইলিশের সংখ্যা ও উৎপাদন ধরে রাখা সম্ভব হবে। এর সুফল শেষ পর্যন্ত ফিরে আসবে জেলেদের কাছেই।
‎
‎বরগুনার পাথরঘাটা দেশের গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য অবতরণকেন্দ্রগুলোর একটি। এখানকার অসংখ্য জেলে ও মৎস্যজীবী পরিবারের জীবন সরাসরি নদী ও সাগরের ওপর নির্ভরশীল। নিষেধাজ্ঞা তাদের জন্য তাই একদিকে যেমন প্রকৃতি ও ইলিশ রক্ষার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ, অন্যদিকে তেমনি কয়েক সপ্তাহের আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার কঠিন বাস্তবতা।
‎
‎একজন জেলের কাছে ২২ দিন মানে শুধু মাছ ধরতে না পারা নয়—পরিবারের খাবার, সন্তানের পড়াশোনা, নৌকার খরচ কিংবা ঋণের কিস্তি নিয়ে নতুন করে চিন্তা। তাই মা ইলিশ রক্ষার এই দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জেলে পরিবারগুলোর প্রতিও মানবিক দৃষ্টি রাখা জরুরি।
‎
‎সরকার নিষেধাজ্ঞার সময়ে নিবন্ধিত জেলে পরিবারগুলোর জন্য খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করেছে। তবে জেলেদের প্রত্যাশা, প্রকৃত জেলেদের তালিকা যাচাই করে যেন দ্রুত ও সঠিকভাবে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়। কোনো প্রকৃত জেলে পরিবার যেন তালিকার বাইরে না থাকে—এটাই তাদের প্রধান দাবি।
‎
‎অন্যদিকে শুধু নদী বা সাগরে অভিযান পরিচালনা করলেই নিষেধাজ্ঞা সফল হবে না। অবৈধভাবে ধরা ইলিশ যাতে আড়ত, বাজার কিংবা অন্য কোনো পথে পৌঁছাতে না পারে, সেদিকেও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে জেলেদের সচেতন করা এবং নিষেধাজ্ঞার বৈজ্ঞানিক ও পরিবেশগত গুরুত্ব তাদের কাছে তুলে ধরাও জরুরি।
‎
‎প্রকৃতি তার সম্পদ মানুষকে দেয়, আবার সেই সম্পদ রক্ষার দায়িত্বও মানুষের। আজ যদি মা ইলিশকে নিরাপদে ডিম ছাড়ার সুযোগ দেওয়া যায়, আগামী দিনে সেই ইলিশই হয়তো হাজারো জেলের নৌকায় ফিরে আসবে, ভরাবে নদী-সাগর এবং সচল রাখবে উপকূলের অর্থনীতি।
‎
‎তাই ২২ দিনের এই নিষেধাজ্ঞা শুধু “মাছ ধরা বন্ধের সময়” নয়; এটি প্রকৃতিকে একটু সময় দেওয়ার, ইলিশের প্রজনন রক্ষার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নদী-সাগরের সম্পদ টিকিয়ে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
‎
‎তবে সেই দায়িত্ব পালনের পথে সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করবেন যে জেলেরা, তাদের পরিবার যেন কষ্টে না থাকে—এ বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।
‎

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews