সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শ্যামনগর উপজেলা অনলাইন নিউজ ক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু, শোকাহত পরিবারের পাশে লংগদু ইউ এনও দেশব্যাপী হত্যা, শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও মব সহিংসতার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন খুলনা নিউমার্কেটের সামনে দুই গাড়ির সংঘর্ষ, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন আরোহীরা পটুয়াখালী দুর্গোৎসব উপলক্ষে দুঃস্থ নারী-পুরুষের মাঝে বস্ত্র বিতরন পুলিশ সুপারের বিভিন্ন পূঁজা মন্ডপ পরিদর্শন জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যশোরের পৃথক পৃথক অভিযানে ১৫০(একশত পঞ্চাশ) পিচ অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট সহ ০৩ জন আটক। রাজশাহী জেলার ডিবি পুলিশ কর্তৃক অভিযানে অবৈধ মাদকদ্রব্য ৪৭ বোতল ESkuf উদ্ধারসহ ০১ জন গ্রেফতার দুর্গোৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য পূজামন্ডপ সমূহে পাহারা দিতে হবে — এমপি আলতাফ হোসেন চৌধুরী আশুলিয়ায় জাল নোট উদ্ধার, দুইজন গ্রেফতার

তিন দিন উত্তাল সাগরে ভেসে ছিলেন আল আমিন, ফিরে শোনালেন সেই গল্প

  • প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬
  • ৭৫ বার পড়া হয়েছে

 

টানা তিন দিন উত্তাল বঙ্গোপসাগরে ভেসে থাকার পর জীবিত অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরেছেন জেলে আল আমিন হাওলাদার (৪২)। তিন দিন অনাহারে থেকে একটি ছোট ফিশিং বয়া আঁকড়ে ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করেছেন তিনি। চোখের সামনে সহকর্মীদের মরদেহ সাগরে ভেসে যেতে দেখেছেন।

ভাসতে ভাসতে শেষ পর্যন্ত ভোলার ঢালচর নদ এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় জেলেরা গত বুধবার সন্ধ্যায় আল আমিনকে উদ্ধার করেন। তিনি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার ইছাদী গ্রামের মৃত চান মিয়া হাওলাদারের ছেলে।গত রোববার রাত ১০টার দিকে আকস্মিক ঝড়ের কবলে পড়ে পায়রা সমুদ্রবন্দর এলাকার পূর্ব-দক্ষিণে গভীর বঙ্গোপসাগরে একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে যায়। ট্রলারটিতে আল আমিনসহ ১১ মাঝিমাল্লা ছিলেন। দুর্ঘটনার পর সবাই নিখোঁজ হন। এর মধ্যে গত সোমবার পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ বাকি ছয়জনের মধ্যে বুধবার সন্ধ্যায় আল আমিনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পরের দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁকে পটুয়াখালীতে পরিবারের কাছে দেওয়া হয়।

দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে থাকার কারণে লবণাক্ত পানি পেটে ঢুকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন আল আমিন। তাঁকে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক।ট্রলার ডোবার পর যা ঘটেছিল
চিকিৎসাধীন আল আমিনের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয় প্রথম আলোর। তিনি বলেন, রোববার রাত ১০টার দিকে তিনি ও অন্য মাঝিমাল্লারা গভীর বঙ্গোপসাগরে জাল ফেলেছিলেন। এ সময় হঠাৎ তীব্র বেগে বাতাস শুরু হলে ট্রলারটি উল্টে ডুবে যায়।

এ সময় ট্রলারের মালিক এমাদুল সিকদার, হারুন মিয়া, আকাশ, রাকিব, শাকিল, নাজমুল, বায়জীদ ও তিনি (আল আমিন) ট্রলারের বাইরে থাকায় সহজে বের হতে পারেন। কিন্তু তাঁর আত্মীয় ফোরকান হাওলাদার, ফোরকানের ছেলে সায়েম ও পানপট্টি এলাকার এবাদুল ট্রলারের কেবিনে থাকায় বের হওয়ার সুযোগ পাননি।আল আমিন বলেন, উত্তাল সাগরে একপর্যায়ে ট্রলারমালিক এমাদুল সিকদার, নাজমুল, বায়জীদ, শাকিল ও রাকিব তাঁদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। তিনি, হারুন ও আকাশ ডুবে যাওয়া ট্রলারের একটি অংশ এবং একটি ফিশিং বয়া ধরে ভেসে থাকেন। দুই দিন পর উল্টে থাকা ট্রলারের কেবিন থেকে ফোরকান ও এবাদুলের মরদেহ বের হয়ে সাগরে ভেসে যেতে দেখেন তাঁরা। তিনি এই দৃশ্য দেখে কাঁদতে থাকেন, একপর্যায়ে কান্না চেপে রেখে বেঁচে থাকার চেষ্টা করতে থাকেন।শুধু বেঁচে থাকার লড়াই
আল আমিন বলতে থাকেন, উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে একপর্যায়ে হারুন ও আকাশের কাছ থেকে তিনি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এরপর একটি ছোট ফিশিং বয়া পেটের নিচে চেপে ধরে একাই ভেসে থাকেন। ক্ষুধা–পিপাসায় দুর্বল হয়ে জ্ঞান হারানোর মতো অবস্থা হয়েছিল। অবশেষে ভাসতে ভাসতে বুধবার সন্ধ্যায় ভোলার ঢালচর নদ এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় জেলে দুলাল মাঝি ও তাঁর সহকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করেন। সেখান থেকে তাঁকে ভোলার চরফ্যাশনে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে পরিবারের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে জেলে আল আমিন হাওলাদারকে। গতকাল শুক্রবার তোলা
উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে জেলে আল আমিন হাওলাদারকে। গতকাল শুক্রবার তোলাছবি: প্রথম আলো
টানা তিন দিন উত্তাল বঙ্গোপসাগরে ভেসে থাকার পর জীবিত অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরেছেন জেলে আল আমিন হাওলাদার (৪২)। তিন দিন অনাহারে থেকে একটি ছোট ফিশিং বয়া আঁকড়ে ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করেছেন তিনি। চোখের সামনে সহকর্মীদের মরদেহ সাগরে ভেসে যেতে দেখেছেন।

ভাসতে ভাসতে শেষ পর্যন্ত ভোলার ঢালচর নদ এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় জেলেরা গত বুধবার সন্ধ্যায় আল আমিনকে উদ্ধার করেন। তিনি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার ইছাদী গ্রামের মৃত চান মিয়া হাওলাদারের ছেলে।

গত রোববার রাত ১০টার দিকে আকস্মিক ঝড়ের কবলে পড়ে পায়রা সমুদ্রবন্দর এলাকার পূর্ব-দক্ষিণে গভীর বঙ্গোপসাগরে একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে যায়। ট্রলারটিতে আল আমিনসহ ১১ মাঝিমাল্লা ছিলেন। দুর্ঘটনার পর সবাই নিখোঁজ হন। এর মধ্যে গত সোমবার পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ বাকি ছয়জনের মধ্যে বুধবার সন্ধ্যায় আল আমিনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পরের দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁকে পটুয়াখালীতে পরিবারের কাছে দেওয়া হয়।

দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে থাকার কারণে লবণাক্ত পানি পেটে ঢুকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন আল আমিন। তাঁকে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক।

দুই দিন পর উল্টে থাকা ট্রলারের কেবিন থেকে ফোরকান ও এবাদুলের মরদেহ বের হয়ে সাগরে ভেসে যেতে দেখি। এই দৃশ্য দেখে কাঁদতে থাকি, একপর্যায়ে কান্না চেপে রেখে বেঁচে থাকার চেষ্টা করি।
আল আমিন হাওলাদার, জেলে
ট্রলার ডোবার পর যা ঘটেছিল
চিকিৎসাধীন আল আমিনের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয় প্রথম আলোর। তিনি বলেন, রোববার রাত ১০টার দিকে তিনি ও অন্য মাঝিমাল্লারা গভীর বঙ্গোপসাগরে জাল ফেলেছিলেন। এ সময় হঠাৎ তীব্র বেগে বাতাস শুরু হলে ট্রলারটি উল্টে ডুবে যায়।

এ সময় ট্রলারের মালিক এমাদুল সিকদার, হারুন মিয়া, আকাশ, রাকিব, শাকিল, নাজমুল, বায়জীদ ও তিনি (আল আমিন) ট্রলারের বাইরে থাকায় সহজে বের হতে পারেন। কিন্তু তাঁর আত্মীয় ফোরকান হাওলাদার, ফোরকানের ছেলে সায়েম ও পানপট্টি এলাকার এবাদুল ট্রলারের কেবিনে থাকায় বের হওয়ার সুযোগ পাননি।

গলাচিপার জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী প্রথম আলোকে বলেন, সোমবার এমাদুল, নাজমুল, শাকিল, বায়জীদ ও রাকিবকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার আল আমিনকে উদ্ধার করা হয়। তাঁর শারীরিক অবস্থা খারাপ থাকায় গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews