সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, কিশোরগঞ্জ ভৈরব সার্কেল এর মাদকবিরোধী অভিযানে ২০০০(দুই হাজার) ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারপূর্বক ০১ জনকে আটক করে নিয়মিত মামলা দায়ের। গোবিন্দগঞ্জে কাটাখালী ও নলেয়া নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ কালিয়াকৈরে অভিযান: ১১০টি কারেন্ট ও রিং জাল জব্দ, পুড়িয়ে ধ্বংস আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে উন্মুক্ত হচ্ছে ‘বনের রানী’ সুন্দরবন ফের উন্মুক্ত ‘বনের রানী’ সুন্দরবন, নতুন আশায় বনজীবী-পর্যটনসংশ্লিষ্টরা যশোরে জেলি পুশ করা ৩৬ কেজি চিংড়ি জব্দ, চালককে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা রাজশাহী মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ঠাকুরগাঁওয়ে ৫২ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার-১ ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈলে ভাড়া বাসা থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার। রাণীশংকৈল প্রেসক্লাব সম্পাদকের পদ ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও সাইবার সন্ত্রাসের অভিযোগ নেপথ্যে সেই কথিত জব্বার ধোপাঘাটা বাজারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মোবাইল কোর্ট: মেয়াদোত্তীর্ণ বালাইনাশক বিক্রির দায়ে জরিমানা

সাতক্ষীরায় পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ভিডিও ও অভিযোগপত্রের অপপ্রচার: নিরপেক্ষ তদন্তে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

  • প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
  • ৭১ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা:

সাতক্ষীরায় পুলিশ প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং লিখিত অভিযোগপত্রের মাধ্যমে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শ্যামনগর উপজেলার চন্ডিপুর এলাকার মোছা. মাছুরা বেগম এবং কালিগঞ্জ উপজেলার বাজারগ্রামের হাফিজুর রহমান ওরফে ‘টেমি হাফিজ’-এর বিরুদ্ধে এ ধরনের অপপ্রচার ও অভিযোগপত্র তৈরির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিলের মাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র সক্রিয় রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ওই চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময় নিজেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচয়ে উপস্থাপনকারী মাছুরা বেগম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একাধিক ভিডিও ও বক্তব্য প্রচার করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, এসব ভিডিও ও অভিযোগের অধিকাংশ তথ্যই ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, কালিগঞ্জের মধুসূদন কর্মকারের বাড়িতে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় পুলিশের তদন্তের একপর্যায়ে মাছুরা বেগমকে আটক করা হয়। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। ওই ঘটনার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অপপ্রচার শুরু হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মিথুন সাহা, ডিআইও-১ হাফিজুর রহমান,
সাবেক এসপি মনিরুজ্জামান, ওসি হাফিজুর রহমানের উপর প্রভাব খাটিয়ে থানার এসআই কামাল ও সুদেপ সহ ডিবি পুলিশ সহ ১৫ পুলিশ সদস্যকে জড়িয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

অন্যদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর এলাকায় ইয়ার আলীর নেতৃত্বাধীন একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, জমি দখলসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। এই চক্রের সহযোগী হিসেবে ডাকাত রেজাউল, বাহার আলী, মাছুরা বেগম ও টেমি হাফিজ এর নামও স্থানীয়দের অভিযোগে উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

এদিকে হাফিজুর রহমান ওরফে ‘টেমি হাফিজ’-এর বিরুদ্ধেও স্থানীয় ভুক্তভোগীদের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, তিনি কখনো সাংবাদিক, কখনো গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য, আবার কখনো সরকারি কর্মকর্তা বা ঠিকাদার পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে হয়রানি করেছেন। এছাড়া রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগও স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি এবং অভিযুক্তের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টেমি হাফিজ বিভিন্ন অভিযোগপত্র ও সংবাদ নিজেই প্রস্তুত করে স্বাক্ষর করেন এবং তার সহযোগীদের মাধ্যমে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা ও সাধারণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই; বরং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সামাজিক ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন এবং হয়রানির উদ্দেশ্যেই এগুলো করা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তা যথাযথ কর্তৃপক্ষ তদন্ত করবে। তবে মিথ্যা তথ্য, অপপ্রচার ও মানহানিকর প্রচারণার মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তারা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মিথুন সাহা, ডিআইও-১ হাফিজুর রহমান, ওসি হাফিজুর রহমান, এসআই কামাল হোসেন, এসআই সুদীপসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চালানো অপপ্রচারের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews