সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শ্যামনগর উপজেলা অনলাইন নিউজ ক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু, শোকাহত পরিবারের পাশে লংগদু ইউ এনও দেশব্যাপী হত্যা, শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও মব সহিংসতার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন খুলনা নিউমার্কেটের সামনে দুই গাড়ির সংঘর্ষ, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন আরোহীরা পটুয়াখালী দুর্গোৎসব উপলক্ষে দুঃস্থ নারী-পুরুষের মাঝে বস্ত্র বিতরন পুলিশ সুপারের বিভিন্ন পূঁজা মন্ডপ পরিদর্শন জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যশোরের পৃথক পৃথক অভিযানে ১৫০(একশত পঞ্চাশ) পিচ অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট সহ ০৩ জন আটক। রাজশাহী জেলার ডিবি পুলিশ কর্তৃক অভিযানে অবৈধ মাদকদ্রব্য ৪৭ বোতল ESkuf উদ্ধারসহ ০১ জন গ্রেফতার দুর্গোৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য পূজামন্ডপ সমূহে পাহারা দিতে হবে — এমপি আলতাফ হোসেন চৌধুরী আশুলিয়ায় জাল নোট উদ্ধার, দুইজন গ্রেফতার

সাতক্ষীরায় পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ভিডিও ও অভিযোগপত্রের অপপ্রচার: নিরপেক্ষ তদন্তে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

  • প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
  • ১৬৫ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা:

সাতক্ষীরায় পুলিশ প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং লিখিত অভিযোগপত্রের মাধ্যমে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শ্যামনগর উপজেলার চন্ডিপুর এলাকার মোছা. মাছুরা বেগম এবং কালিগঞ্জ উপজেলার বাজারগ্রামের হাফিজুর রহমান ওরফে ‘টেমি হাফিজ’-এর বিরুদ্ধে এ ধরনের অপপ্রচার ও অভিযোগপত্র তৈরির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিলের মাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র সক্রিয় রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ওই চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময় নিজেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচয়ে উপস্থাপনকারী মাছুরা বেগম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একাধিক ভিডিও ও বক্তব্য প্রচার করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, এসব ভিডিও ও অভিযোগের অধিকাংশ তথ্যই ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, কালিগঞ্জের মধুসূদন কর্মকারের বাড়িতে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় পুলিশের তদন্তের একপর্যায়ে মাছুরা বেগমকে আটক করা হয়। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। ওই ঘটনার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অপপ্রচার শুরু হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মিথুন সাহা, ডিআইও-১ হাফিজুর রহমান,
সাবেক এসপি মনিরুজ্জামান, ওসি হাফিজুর রহমানের উপর প্রভাব খাটিয়ে থানার এসআই কামাল ও সুদেপ সহ ডিবি পুলিশ সহ ১৫ পুলিশ সদস্যকে জড়িয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

অন্যদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর এলাকায় ইয়ার আলীর নেতৃত্বাধীন একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, জমি দখলসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। এই চক্রের সহযোগী হিসেবে ডাকাত রেজাউল, বাহার আলী, মাছুরা বেগম ও টেমি হাফিজ এর নামও স্থানীয়দের অভিযোগে উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

এদিকে হাফিজুর রহমান ওরফে ‘টেমি হাফিজ’-এর বিরুদ্ধেও স্থানীয় ভুক্তভোগীদের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, তিনি কখনো সাংবাদিক, কখনো গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য, আবার কখনো সরকারি কর্মকর্তা বা ঠিকাদার পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে হয়রানি করেছেন। এছাড়া রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগও স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি এবং অভিযুক্তের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টেমি হাফিজ বিভিন্ন অভিযোগপত্র ও সংবাদ নিজেই প্রস্তুত করে স্বাক্ষর করেন এবং তার সহযোগীদের মাধ্যমে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা ও সাধারণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই; বরং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সামাজিক ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন এবং হয়রানির উদ্দেশ্যেই এগুলো করা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তা যথাযথ কর্তৃপক্ষ তদন্ত করবে। তবে মিথ্যা তথ্য, অপপ্রচার ও মানহানিকর প্রচারণার মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তারা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মিথুন সাহা, ডিআইও-১ হাফিজুর রহমান, ওসি হাফিজুর রহমান, এসআই কামাল হোসেন, এসআই সুদীপসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চালানো অপপ্রচারের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews