সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, কিশোরগঞ্জ ভৈরব সার্কেল এর মাদকবিরোধী অভিযানে ২০০০(দুই হাজার) ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারপূর্বক ০১ জনকে আটক করে নিয়মিত মামলা দায়ের। গোবিন্দগঞ্জে কাটাখালী ও নলেয়া নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ কালিয়াকৈরে অভিযান: ১১০টি কারেন্ট ও রিং জাল জব্দ, পুড়িয়ে ধ্বংস আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে উন্মুক্ত হচ্ছে ‘বনের রানী’ সুন্দরবন ফের উন্মুক্ত ‘বনের রানী’ সুন্দরবন, নতুন আশায় বনজীবী-পর্যটনসংশ্লিষ্টরা যশোরে জেলি পুশ করা ৩৬ কেজি চিংড়ি জব্দ, চালককে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা রাজশাহী মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ঠাকুরগাঁওয়ে ৫২ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার-১ ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈলে ভাড়া বাসা থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার। রাণীশংকৈল প্রেসক্লাব সম্পাদকের পদ ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও সাইবার সন্ত্রাসের অভিযোগ নেপথ্যে সেই কথিত জব্বার ধোপাঘাটা বাজারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মোবাইল কোর্ট: মেয়াদোত্তীর্ণ বালাইনাশক বিক্রির দায়ে জরিমানা

দাম না থাকায় লোকসানে রাজশাহীর পানচাষিরা

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

মোঃ নাসিরউদ্দিন নিজস্ব সটাফ রিপোর্টার

বরজে পান পেকে নষ্ট হওয়ার উপক্রম, অথচ বাজারে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত দাম। সার, কীটনাশক, খৈল, সেচ, শ্রমিকের মজুরি ও বরজ তৈরির উপকরণের দাম বাড়লেও রাজশাহীর হাটে পানের দর কমেছে। ফলে উৎপাদন খরচ তুলে আনতে না পেরে চরম লোকসানে পড়েছেন জেলার পানচাষিরা।
রাজশাহীর মিষ্টি পানের কদর রয়েছে দেশ-বিদেশে। এ পান জিআই স্বীকৃতিও পেয়েছে। জেলার অন্যতম বৃহৎ পান বিক্রয়কেন্দ্র মোহনপুরের মৌগাছি হাটে গিয়ে চাষিদের এমন দুর্দশার চিত্র দেখা গেছে।
মোহনপুরের পানচাষি মশিউর রহমান জানান, এক বিঘা জমিতে বরজ তৈরি ও চারা রোপণ করতেই প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়। বছরজুড়ে পরিচর্যায় আরও প্রায় এক লাখ টাকা ব্যয় হয়। অর্থাৎ বছরে মোট প্রায় দুই লাখ টাকা খরচের বিপরীতে এক লাখ টাকার পান বিক্রি করাও এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাঁশসহ বরজ তৈরির উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতি বিড়া পানের দাম অন্তত ৮০ টাকা হলে ভালো হতো বলে জানান তিনি।
মোহনপুরের ত্রিমোহনী এলাকার চাষি মো. রমজান আলী বলেন, ১০ কাঠা জমিতে পান চাষ করেছেন। বরজ পরিচর্যায় বছরে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। খৈল, সার, কীটনাশক ও সেচে বড় অঙ্কের টাকা ব্যয় হয়। অথচ হাটে প্রতি বিড়া পানের দাম বলা হচ্ছে মাত্র ২০ টাকা। তাঁর ভাষ্য, প্রতি বিড়া অন্তত ৫০ টাকা না পেলে টিকে থাকা কঠিন।
মোহনপুরের কেশরহাটের পানচাষি তমেজ উদ্দিন বলেন, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরিসহ সব খাতেই খরচ বেড়েছে। কিন্তু হাটে সেই তুলনায় বাড়েনি পানের দাম। বর্তমানে ছোট আকারের পান মানভেদে প্রতি বিড়া ১০ থেকে ২৫ টাকা এবং বড় আকারের পান ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উৎপাদন খরচের তুলনায় এ দাম অনেক কম।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ব্যবসায়ী রহমত শেখ বলেন, পানের দাম মূলত চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নির্ভর করে। সরবরাহ বাড়লে দাম কমে এবং কমলে দাম বাড়ে। বর্ষাকালে উৎপাদন বেশি হওয়ায় দাম কিছুটা কম থাকে। তিনি বলেন, তারা যে বাজারে পান নিয়ে বিক্রি করেন, সেখানেও দাম কম। ফলে চাষিদের কাছ থেকে কম দামে পান কিনতে হচ্ছে। শীতকালে পানের দাম কিছুটা কম থাকে বলেও জানান তিনি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক পাপিয়া রহমান মৌরী বলেন, চলতি বছর রাজশাহী জেলায় ৫ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে পান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪৬ হাজার ৮২৫ মেট্রিক টন। গত বছর জেলার নয়টি উপজেলায় ৪ হাজার ৫০৯ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়েছিল। উৎপাদন হয়েছিল ৭৯ হাজার ৬৮১ মেট্রিক টন। তিনি বলেন, পান রপ্তানির উপযোগী করা এবং চাষিরা যাতে ভালো দাম পান, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews