
নিজস্ব প্রতিবেদক
আজ পিংক বাসের একজন নারী চালক খুব সুন্দরভাবে বাস চালিয়ে পুরো পথ শেষ করেছেন। কোনো দুর্ঘটনা হয়নি, কেউ বাসে ধাক্কা দেয়নি, বাস উড়ালসড়কে আটকে যায়নি, কোনো যাত্রী চিৎকার করেনি এবং কাউকে নেমে বাস ঠেলতেও হয়নি।
তাই স্বাভাবিকভাবেই, এই ভিডিওটি আপনি ফেসবুকে দেখেননি। কারণ আমাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম স্বাভাবিকভাবে ভালো কিছু হওয়াকে খুব একটা গুরুত্ব দেয় না। ভালোভাবে কাজ করা নাকি খুব একঘেয়ে। একটি নতুন সেবার ৫০টি যাত্রা ঠিকঠাক হলে সেটা কোনো খবর হয় না। কিন্তু ৫১তম যাত্রায় সামান্য কিছু ঘটলেই, সেই ২০ সেকেন্ডের ভিডিও দিয়ে পুরো প্রকল্পকে বিচার করা শুরু হয়।
চালক নারী হলে ব্যাপারটা আরও কঠিন। তাঁর একটি ভুল আর শুধু গাড়ি চালানোর ভুল থাকে না, মুহূর্তের মধ্যে সেটা পরিণত হয় “মেয়েরা বাস চালাতে পারে কি না” এই বিতর্কে। একজন পুরুষ চালক ভুল করলে আমরা বলি, “চালক খারাপ।” একজন নারী চালক ভুল করলে অনেকে বলে, “নারীদের দিয়ে বাস চালানোই ভুল।”
এই দ্বৈত মানসিকতাটাই আসলে বেশি চিন্তার বিষয়। পিংক বাস সফল হবে কি না, সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না। কিন্তু এটি সফল না হলেও, সেটি হবে একটি পরিবহন প্রকল্পের ব্যর্থতা, নারীদের সক্ষমতার নয়। আর এটি সফল হলে, আশা করি সেই খবরটাও অন্তত ব্যর্থতার ভিডিওগুলোর অর্ধেক গুরুত্ব পাবে।