
লুৎফর সিকদার গোপালগঞ্জ নিজস্ব প্রতিনিধি:
কলমযোদ্ধা এম টি রহমান মাহমুদ: সাংবাদিকতা, সাহিত্য ও মানবিকতার এক অনন্য পথচলা… ৩৭ বছর পথচলা
সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়-সত্য, মানুষের অধিকার ও সমাজের কথা তুলে ধরার এক নিরন্তর দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধকে ধারণ করে দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার অঙ্গনে সক্রিয় রয়েছেন গোপালগঞ্জ শহরের পোস্ট অফিস রোডের বাসিন্দা সাংবাদিক এম টি রহমান মাহমুদ। ১৯৮৮ সালে স্থানীয় সংবাদপত্রে হাতে-কলমে সাংবাদিকতার যাত্রা শুরু করে ২০২৬ সালেও তিনি সমানভাবে সক্রিয়। দীর্ঘ এই পথচলায় সাংবাদিকতা, সাহিত্য, সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তিনি তৈরি করেছেন নিজের স্বতন্ত্র পরিচয়। এপেক্স বাংলাদেশের ৬৫ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য সন্মাননা প্রধান করেন এপেক্স ক্লাবের চেয়ারম্যান এম মনিরুল ইসলাম ভূইয়া, ন্যাশনাল চেয়ারম্যান আবু নাঈম মো: মাকসুদুর রহমান, ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট এস. কে. দও অনুপ প্রমুখ।
১৯৮৮ সালে গোপালগঞ্জের স্থানীয় পত্রিকা দৈনিক ভোরের বাণী, দৈনিক যুগকথা ও বাংলার সংকেত-এ কাজের মধ্য দিয়ে তাঁর সাংবাদিকতার প্রাথমিক হাতেখড়ি। কলেজজীবনেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন অনিক সাহিত্য সংসদ। একই সময়ে বঙ্গবন্ধু কলেজের স্কাউট ও রেডক্রিসেন্ট কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করেন। কলেজ সংসদ নির্বাচনেও অংশ নেন। ফলে ছাত্রজীবন থেকেই সমাজ, সাহিত্য ও মানুষের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পৃক্ততা গড়ে ওঠে।
১৯৯৬ সালে তিনি দৈনিক দিনকাল পত্রিকার গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি সংবাদ সংস্থা আবাস, দৈনিক বর্তমানসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করেন। পরবর্তী সময়ে দৈনিক খবর-এর সিনিয়র প্রতিনিধি এবং পরে খবর গ্রুপের ব্যুরো প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া সাপ্তাহিক চিত্রবাংলা, সাপ্তাহিক আজকের সূর্যোদয়-এর ‘গেদু চাচা’খ্যাত সাংবাদিকতা পরিসরেও সিনিয়র প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কাজ করেছেন দৈনিক প্রাইম, দৈনিক সবুজদেশ ও দৈনিক নিরপেক্ষসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে।
২০০০ সালে প্রবাসজীবনে পাড়ি দিলেও থেমে যায়নি তাঁর সাংবাদিকতার পথচলা। কুয়েতেও তিনি সাংবাদিকতা ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে কাজ করেছেন। কুয়েত প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের আন্দোলনের সময় মুরাদ হোসেন লোকমান এবং সাংবাদিক মাহমুদ আব্দুল গাফফার চৌধুরী-এর সঙ্গে কাজ করেন। কুয়েত সাংবাদিক ক্লাবের প্রচার সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি দৈনিক দিনকালের সম্পাদক সানাউল্লাহ নূরী-এর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান।
প্রবাসে থাকাকালীন কুয়েত সরকারের অনুমোদিত মাসিক মরু লেখা-এর বার্তা সম্পাদক এবং এগারোশে বাংলা-র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চায়ও তাঁর সক্রিয় পদচারণা রয়েছে। ইতোমধ্যে তাঁর তিনটি যৌথ কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। সাহিত্য অঙ্গনে অবদানের জন্য পেয়েছেন বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা।
দেশে ফিরে তিনি আবারও সাংবাদিকতায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। বর্তমানে তিনি দৈনিক সকালের সময় পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ রয়টার্স, জার্নাল ভিশন, News 24 Online BD, দৈনিক দেশ বাংলা ও দৈনিক প্রবাহসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাংগঠনিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। তিনি প্রেসক্লাব গোপালগঞ্জের ২০০০-২০০১ সালের অর্থসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি গোপালগঞ্জ সাংবাদিক ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া গোপালগঞ্জ রেডক্রিসেন্টের আজীবন সদস্য, টুঙ্গিপাড়ার গহরডাঙ্গা মাদ্রাসার আজীবন সদস্য এবং গোপালগঞ্জ এপেক্স ক্লাবের মেম্বারশিপ ও অ্যাটেনডেন্স ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি গ্রিন ফোর্স, গোপালগঞ্জ জেলা-এর সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন।
সাংবাদিক এম টি রহমান মাহমুদের সাংবাদিকতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের কথা তুলে ধরা। শ্রমিকবান্ধব সাংবাদিক হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের কাছ থেকে তিনি পেয়েছেন সম্মাননা। সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৬৫তম এপেক্স ক্লাব বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার জন্য তিনি সম্মাননা লাভ করেন। দৈনিক সকালের সময় পত্রিকার পক্ষ থেকেও পেয়েছেন সম্মাননা।
তাঁর সাংবাদিকতা-জীবনে কয়েকজন মানুষ আদর্শ ও প্রেরণার উৎস হয়ে রয়েছেন। সাংবাদিক নেক মোহাম্মদ, সাংবাদিক ও কবি জাহাঙ্গীর হোসেন বাবলু, আহ জুবায়েদ এবং মাসিক মরু লেখার সম্পাদক আব্দুর রউফ মাওলা তাঁর সাংবাদিকতা ও সাহিত্যজীবনের অনুপ্রেরণার মানুষ হিসেবে স্মরণীয়।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি কবিতা ও সাহিত্যচর্চার ধারাবাহিকতায় বর্তমানে তিনি জাতীয় কবিতা পরিষদ, গোপালগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অর্থাৎ সংবাদকক্ষ থেকে সাহিত্যাঙ্গন-দুই ক্ষেত্রেই তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে।
তাঁর ৩৭ বছরের পথচলা শুধু বিভিন্ন পত্রিকার পরিচয় কিংবা দায়িত্বের তালিকা নয়; এটি এক দীর্ঘ সাংবাদিকতাজীবনের অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম, মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় এবং সময়ের সঙ্গে নিজেকে এগিয়ে নেওয়ার গল্প। স্থানীয় সংবাদপত্র থেকে জাতীয় পর্যায়ের সংবাদমাধ্যম, দেশ থেকে প্রবাস, সাংবাদিকতা থেকে সাহিত্য—বহুমাত্রিক এই পথচলায় এম টি রহমান মাহমুদ নিজের কর্মপরিধিকে বিস্তৃত করেছেন।
গোপালগঞ্জের সাংবাদিকতা ও সাহিত্য অঙ্গনে তাঁর দীর্ঘ পথচলা নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্যও অনুপ্রেরণার। সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতা, মানুষের কথা বলা এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার যে ধারাটি তিনি ধরে রেখেছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।
দৈনিক আমাদের বসুন্ধরা পরিবারের পক্ষ থেকে সাংবাদিক এম টি রহমান মাহমুদের দীর্ঘ কর্মময় জীবনের সাফল্য, সুস্বাস্থ্য ও আরও সমৃদ্ধ পথচলা কামনা করা হচ্ছে। ৬৫ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর স্লোগান 1 Country 1 Apex 65 th Day!