সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:২৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, কিশোরগঞ্জ ভৈরব সার্কেল এর মাদকবিরোধী অভিযানে ২০০০(দুই হাজার) ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারপূর্বক ০১ জনকে আটক করে নিয়মিত মামলা দায়ের। গোবিন্দগঞ্জে কাটাখালী ও নলেয়া নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ কালিয়াকৈরে অভিযান: ১১০টি কারেন্ট ও রিং জাল জব্দ, পুড়িয়ে ধ্বংস আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে উন্মুক্ত হচ্ছে ‘বনের রানী’ সুন্দরবন ফের উন্মুক্ত ‘বনের রানী’ সুন্দরবন, নতুন আশায় বনজীবী-পর্যটনসংশ্লিষ্টরা যশোরে জেলি পুশ করা ৩৬ কেজি চিংড়ি জব্দ, চালককে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা রাজশাহী মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ঠাকুরগাঁওয়ে ৫২ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার-১ ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈলে ভাড়া বাসা থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার। রাণীশংকৈল প্রেসক্লাব সম্পাদকের পদ ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও সাইবার সন্ত্রাসের অভিযোগ নেপথ্যে সেই কথিত জব্বার ধোপাঘাটা বাজারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মোবাইল কোর্ট: মেয়াদোত্তীর্ণ বালাইনাশক বিক্রির দায়ে জরিমানা

​অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস: হাওরের মাঠভরা ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় শাল্লার কৃষক

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৩৭ বার পড়া হয়েছে

হাবিবুর রহমান হাবিব, শাল্লা (সুনামগঞ্জ) থেকে নিজস্ব প্রতিনিধীঃ
​বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা সতর্কীকরণ ও পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৮ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সুনামগঞ্জের হাওর অববাহিকায় অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এই সংবাদে শাল্লাসহ পুরো হাওর অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে তৈরি হয়েছে চরম আতঙ্ক। একদিকে মাঠ ভরা বোরো ধান, অন্যদিকে বন্যার হাতছানি—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে হাওরের কৃষক এখন এক অসম লড়াইয়ে লিপ্ত।
​শ্রমিক সংকট ও যন্ত্রের সীমাবদ্ধতা
কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আগামী ২৮ এপ্রিলের মধ্যে হাওরের ৮০ শতাংশ পরিপক্ক ধান জরুরি ভিত্তিতে কেটে ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেই নির্দেশনা কার্যকর করা যেন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। হাওরের জমিতে অতিরিক্ত পানি থাকায় হারভেস্টার মেশিন নামানো যাচ্ছে না। এদিকে ধান কাটার জন্য শ্রমিকেরও চরম সংকট দেখা দিয়েছে। শ্রমিকের অভাবে ধান কাটার গতি অত্যন্ত ধীর, যার ফলে বেশিরভাগ ধান এখনো মাঠেই রয়ে গেছে।
​সংসারের হাল ধরতে মাঠে শিক্ষার্থীরা
ফসলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখন পরিবারের প্রতিটি সদস্য মাঠের লড়াইয়ে নেমেছেন। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলে-মেয়েদেরও আজ বই-খাতা রেখে পরিবারের সাথে ধান তোলার কাজে হাত লাগাতে হচ্ছে। শুধু পেটের অন্ন সংস্থান নয়, বোরো ধানই তাদের বছরের একমাত্র অবলম্বন। এই ধান ঘরে তোলা ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।
​প্রকৃতির বৈরিতা ও বাজারের অস্থিরতা
হাওরের কৃষককে সারা বছর লড়াই করতে হয় প্রকৃতির সাথে। কখনো কালবৈশাখী, কখনো শিলাবৃষ্টি, আবার কখনো অসময়ের বৃষ্টি—এই রুদ্রমূর্তির মাঝেই চলে জীবনসংগ্রাম। এর ওপর আছে ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার যন্ত্রণা। সারা সিজন হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে যে সোনা ফলানো হয়, বাজারে তার সঠিক দাম না পাওয়ায় কৃষকের দীর্ঘশ্বাস কেবল দীর্ঘই হচ্ছে।
​ভেঙে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন
শাল্লার কৃষকরা এখন আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রহর গুনছেন। যদি পূর্বাভাস অনুযায়ী বন্যা চলেই আসে, তবে মাঠের ফসল তলিয়ে যাবে, আর সেই সাথে ভেঙে যাবে হাজারো কৃষক পরিবারের বেঁচে থাকার শেষ স্বপ্ন। ধান কাটা, মাড়াই, শুকানো এবং গোলায় তোলা—এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আগেই বন্যার আশঙ্কা তাদের চোখের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।
​প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের প্রতি আহ্বান
হাওরের এই দুর্দিনে স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ যদি জরুরি ভিত্তিতে শ্রমিক সহায়তা প্রদানসহ কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করে, তবেই কৃষকের দুঃখ কিছুটা লাঘব হতে পারে। অন্যথায়, শাল্লার কৃষি অর্থনীতি চরম ক্ষতির মুখে পড়ার তীব্র আশঙ্কা রয়েছে। হাওরবাসীর একমাত্র দাবি—প্রকৃতির এই বৈরী সময়ে তাদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফলানো সোনার ধানটুকু যেন নিরাপদে গোলায় ওঠে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews