
নিজস্ব প্রতিনিধী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় দলিল সই হতে পারে। তার মধ্যে রয়েছে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), ৩টি চুক্তি (একটি প্রটোকল) ও একটি কর্মপরিকল্পনা। এসব চুক্তি বা সমঝোতা স্মারকের কোথাও কাগজে-কলমে তিস্তা প্রকল্পের বিষয়ে কোনো কিছু নেই। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা প্রকল্পের বিষয়ে লিখিতভাবে কোনো কিছু না থাকলেও আলোচনায় থাকবে তিস্তা প্রকল্প ইস্যু। চীন এ প্রকল্পে অর্থায়ন করবে কি না সে বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হবে।কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, চীনের সঙ্গে যে তিনটি চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে তার মধ্যে প্রথমটি উন্নয়ন সহযোগিতাবিষয়ক। দ্বিতীয়টি মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ সংক্রান্ত চুক্তি। তৃতীয়টি চীনা ভাষা সহযোগিতা চুক্তি।
প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)-এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে সমঝোতা, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনেশিয়েটিভের প্রচার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) সহযোগিতা বৃদ্ধি, বাংলাদেশ থেকে চীনে উচ্চ মানের পণ্য রপ্তানির জন্য কর্মপরিকল্পনা, মুক্তবাণিজ্য চুক্তি ও বহুপাক্ষিকতাকে সমর্থন, জ্বালানি খাতে সবুজ উন্নয়ন, গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রচার, যৌথ মানবসম্পদ উন্নয়ন সহযোগিতা পরিকল্পনা, বৃত্তিমূলক শিক্ষায় সমঝোতা, সিনহুয়া ও বিএসএস-এর মধ্যে সমঝোতা, সিনহুয়া ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা, চায়না মিডিয়া গ্রুপ ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা, চায়না মিডিয়া গ্রুপ ও বিটিভির মধ্যে সমঝোতা।কূটনৈতিক সূত্রে আরও জানা গেছে, চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনেশিয়েটিভে (বিআরআই) বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে চাপ আছে।
বিআরআই চীন ঘোষিত একটি বৈশ্বিক অবকাঠামো বিনিয়োগ কৌশল। সমুদ্র ও স্থলপথে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপকে বাণিজ্যসূত্রে একত্রিত করাই যার অন্যতম লক্ষ্য।
প্রসঙ্গত, তিস্তা অববাহিকায় পানি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করতে চীন অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা দেওয়ার প্রস্তাব করেছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজও এগিয়েছিল। তিস্তা নিয়ে চীনের এই আগ্রহকে ভালোভাবে নেয়নি ভারত। তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিরোধ বহু পুরোনো। সেখানে চীন তিস্তা প্রকল্পে অর্থায়ন করলে ভূরাজনৈতিকভাবে নতুন হিসাব-নিকাশ কষা শুরু হয়।