
জিহাদ হাসান
(শরীয়তপুর)নিজস্ব প্রতিনিধি
শরীয়তপুরের জাজিরায় পাট কাটার দুই শ্রমিককে নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নারীসহ দুই পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে উপজেলার সেনেরচর ইউনিয়নের বালিয়াকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বালিয়াকান্দি এলাকার জামাল সরদার দুই শ্রমিককে তাঁর জমিতে পাট কাটার জন্য কাজে যেতে বলেন। একই দুই শ্রমিককে নিজের জমিতে কাজ করার জন্য বলেন স্থানীয় ইদ্রিস জমাদ্দার। পরে বৃষ্টি শুরু হলে ওই দুই শ্রমিক ইদ্রিস জমাদ্দারের জমিতে কাজে না গিয়ে জামাল সরদারের জমিতে পাট কাটতে যান। এ নিয়ে দুপুরে ইদ্রিস জমাদ্দার ওই দুই শ্রমিককে গালাগালি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে সন্ধ্যায় বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন স্থানীয় চেয়ারম্যান জালাল জমাদ্দার। তিনি দুই পক্ষকে নিয়ে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় ইদ্রিস জমাদ্দার তাঁর লোকজন নিয়ে জামাল সরদার ও তাঁর ভাই আমজাদ সরদারের বাড়িতে হামলা চালান।
পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের ১০ থেকে ১২ জন আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পাঁচজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে জাজিরা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় পুলিশ সেখানে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
আমজাদ সরদারের অভিযোগ, ইদ্রিস জমাদ্দার ও তাঁর লোকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁদের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় নারীসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য আহত হন। হামলায় এক নারীকে মাথায় কুপিয়ে জখম করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া হামলাকারীরা বাড়িঘর ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছেন বলে দাবি করেন আমজাদ সরদার।
স্থানীয়রা জানান, দুই শ্রমিককে নিয়ে শুরু হওয়া বিরোধ প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও গালাগালিতে গড়ায়। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য চেয়ারম্যানের উদ্যোগে সালিশ বসানো হলেও সেখানে হামলার অভিযোগ ওঠার পর পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।
অভিযোগের বিষয়ে ইদ্রিস জমাদ্দারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জাজিরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালেহ্ আহাম্মদ বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”