বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সাতক্ষীরা মেডিকেলে ধর্ষণের শিকার শিশুকে দেখতে গেলেন জামায়াতের জেলা আমীর শহিদুল ইসলাম মুকুল বাউফল থানা পুলিশ কর্তৃক পৃথক দুইটি অভিযানে ৫১০ পিস ইয়াবাসহ দুইজন মাদক কারবারী আটক। কলাপাড়া থানা পুলিশ কর্তৃক পৃথক দুইটি অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ দুইজন মাদক কারবারী আটকঃ- পাবনা জেলা পুলিশের সাফল্য প্রাইভেট কার সহ ৫০০ পিস ফেনসিডিল (ESkuf Cough Syrup),সহ ১জন আসামি গ্রেফতার। বিলাসবহুল গাড়িতে মাদক পরিবহন; বিদেশী মদসহ ০১ জন আটক ‎পাথরঘাটার লেমুয়া বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অর্ধশতাধিক দোকান পুড়ে ছাই, কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি। পাবনার ঈশ্বরদীতে ডিবি পুলিশের অভিযানে ২৫০ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার। টেকনাফে র‌্যাব-১৫ এর সফল অভিযান: ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ ০২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার, মোটরসাইকেল ও মোবাইল উদ্ধার টেকনাফ উপজেল হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা ২৪ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এপিবিএনের অভিযান: অস্ত্র, ১৬৬ ইয়াবা ও নগদ ৬৬ হাজার ৬০০ টাকাসহ ৩ জন আটক পুলিশের অভিযানে ২২ কেজি গাঁজা সহ ০২ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক প্রসঙ্গে।

সাতক্ষীরার মাদক সম্রাট শামীমের সিন্ডিকেট ধরাছোঁয়ার বাইরে ‘গডফাদার’, জিম্মি এলাকাবাসী

  • প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬
  • ৯৯ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক,

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরা ও কুলিয়া সীমান্তে মাদক সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র অধিপতি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে শামীম নামের এক যুবক। তার গড়ে তোলা বিশাল মাদক সিন্ডিকেটের জালে আটকা পড়ে ধ্বংসের মুখে ধাবিত হচ্ছে স্থানীয় যুবসমাজ। বিলাসবহুল গাড়ি-বাড়ি আর অগাধ সম্পদের মালিক এই শামীম প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে সখ্যতার দোহাই দিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে এবং এলাকাবাসীর অভিযোগে জানা গেছে, সাতক্ষীরা সদরের নবাতকাটি বটতলা এলাকা এখন মাদকের উন্মুক্ত বাজারে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন ইফতারের ঠিক পরেই সেখানে সারি সারি মোটরসাইকেলের জটলা দেখা যায়। মাদকসেবীরা দূর-দূরান্ত থেকে এসে সিরিয়াল দিয়ে এখান থেকে মাদক সংগ্রহ করে। শামীমের বেতনভুক্ত ৪-৫ জন সহযোগী দামি ‘আর-ওয়ান ফাইভ’ (R15) মোটরসাইকেলে করে এলাকায় মাদক সরবরাহ ও হোম ডেলিভারি নিশ্চিত করে।

অভিযোগ রয়েছে, শামীম প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করে বলে—সাতক্ষীরার কোনো পুলিশের তাকে গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা নেই। সে নিজেকে ডিবি, সদর থানা ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (আবগারি) ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করে। এমনকি সাবেক এক সার্কেল এসপি (কালিগঞ্জ ও সদর) তার পকেটে ছিল এবং তাকে নিয়মিত বিদেশি মদ সাপ্লাই করত বলেও এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে। কোনো আইনি জটিলতায় পড়লে ওই সাবেক কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট থানার ওসিদের ফোন করে তদবির করতেন বলে জানা যায়। বর্তমানেও প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্য ‘তেল খরচের’ নামে নিয়মিত মাসোহারা নিয়ে তার স্পটে উপস্থিত থেকেও মাদক বিক্রিতে বাধা দেয় না বলে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শামীমের এই অন্ধকার জগতের শিকড় অনেক গভীরে। কেবল সে একা নয়, তার পিতা, মাতা, দুই বোন এবং ভগ্নিপতিও জেলায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। এই পারিবারিক সিন্ডিকেট পুরো সীমান্ত এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। এমনকি অন্য কেউ যদি ওই রুটে ব্যবসা করতে চায়, তবে তাকে শামীমকে ‘ট্যাক্স’ বা চাঁদা দিতে হয়।

এলাকাবাসী জানান, কেউ এই অপকর্মের প্রতিবাদ করলে তাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার হুমকি দেওয়া হয়। শামীমের ক্ষমতার দাপটে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম শেষ হয়ে যাবে। আমরা শুধু চেয়ে চেয়ে দেখছি, কিন্তু করার কিছু নেই।”

এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে শামীমের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। যার ফলে তার কোনো মন্তব্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।

সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকায় মাদকের এই ভয়াবহ বিস্তার রোধে এবং এই প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গুঁড়িয়ে দিতে জেলা পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, কোনো বিশেষ ব্যক্তির দাপটের কাছে যেন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং যুবসমাজের ভবিষ্যৎ বলি না হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews