
নিজস্ব প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের সফল অভিযানে ১৮ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তবে স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা শুধুই বাহক নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও বড় কোনো মাদক সিন্ডিকেট.?
তদন্তের মাধ্যমে মাদকের মূল হোতা, অর্থদাতা, সরবরাহকারী ও আশ্রয়দাতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি উঠেছে।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ হাসিনুজ্জামান-এর তত্ত্বাবধানে ডিবির খ-জোনের ইনচার্জ সাজ্জাদ করিম খান-এর নেতৃত্বে একটি চৌকস আভিযানিক দল ২২ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ বিকেল আনুমানিক ৫টা ৩০ মিনিটে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন মিজমিজি কান্দাপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে জনৈক মতিন সাহেবের নির্মাণাধীন বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়া নেওয়া দক্ষিণ পাশের একটি কক্ষের খাটের নিচ থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।
এ সময় ১৮ (আঠারো) কেজি গাঁজা উদ্ধারসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলো:
১. মোঃ জসীম উদ্দিন (৩৪)
পিতা: মৃত আবুল হাশেম
মাতা: ফাতেমা বেগম
ঠিকানা: বোলাভো, শহীদ নগর স্কুল সংলগ্ন, ৪ নং ওয়ার্ড, থানা- রূপগঞ্জ, জেলা- নারায়ণগঞ্জ।
২. লিটন (৪৫)
পিতা: মৃত কদম আলী আখন
মাতা: কমলা বেগম
ঠিকানা: পুজেশ্বর, থানা- বেদেরগঞ্জ, জেলা- শরীয়তপুর।
নারায়ণগঞ্জ জেলা ডিবি পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধারকৃত বিপুল পরিমাণ গাঁজা কোনো সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের উদ্দেশ্যে মজুদ রাখা হয়েছিল।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, এত বড় চালানের পেছনে একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, শুধু বাহক বা পরিবহনকারীদের গ্রেফতার করলেই মাদক নির্মূল হবে না।
এই মাদক কোথা থেকে এসেছে, কারা এর অর্থায়ন করেছে, কারা গুদামজাত করার সুযোগ দিয়েছে এবং কারা এলাকায় এদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে এসব বিষয় গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
তদন্তের স্বার্থে গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতা, সরবরাহকারী ও সহযোগীদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এছাড়া আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তদন্তে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট যোগাযোগের তথ্য, কল রেকর্ড ও অন্যান্য ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণ করে মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তবে এসব পদক্ষেপ অবশ্যই আদালতের নির্দেশনা ও প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সম্পন্ন করতে হবে।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সিদ্ধিরগঞ্জবাসী আশা করছেন, এই অভিযানের মাধ্যমে শুধু দুই মাদক কারবারিই নয়, বরং তাদের পেছনে থাকা পুরো মাদক সিন্ডিকেট, গডফাদার, অর্থদাতা এবং আশ্রয়দাতাদেরও আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে রক্ষায় জেলা গোয়েন্দা শাখা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের চলমান অভিযান আরও জোরদার হবে বলেও প্রত্যাশা করছেন তারা।
মাদকদ্রব্যসহ সকল ধরনের অপরাধ দমনে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), নারায়ণগঞ্জ এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।