
নিজস্ব প্রতিবেদক, তুষার কান্তি হাওলাদার
পাথরঘাটা, বরগুনা
রাজনীতির মাঠে পরিচিত একজন মানুষ হয়েও নিজেকে শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি পাথরঘাটার বদিউজ্জামান শাহেদ। মানুষের প্রয়োজন, এলাকার সমস্যা এবং জনস্বার্থের বিভিন্ন বিষয়ে সরাসরি পাশে দাঁড়ানোর কারণে তিনি স্থানীয়ভাবে একজন মানবিক ও সমাজসচেতন মানুষ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
পাথরঘাটার মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নানা সমস্যা নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। রাস্তা-ঘাট, কালভার্ট, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ সড়ক, পরিবেশ ও শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁর সরব উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর পরিচয় রয়েছে। তিনি পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি মানুষের জন্য তাঁর বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডই তাঁকে আলাদা করে তুলে ধরেছে।
ঝুঁকিপূর্ণ কালভার্ট মেরামতে নিজেই এগিয়ে এলেন
পাথরঘাটার একটি ঝুঁকিপূর্ণ কালভার্ট সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করেছিল। বিষয়টি সামনে আসার পর সেটি মেরামতের উদ্যোগ নেন বদিউজ্জামান শাহেদ।
মানুষের প্রতিদিনের চলাচলের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি স্থাপনা সংস্কারে নিজের উদ্যোগে এগিয়ে আসা ছিল তাঁর জনকল্যাণমূলক কাজের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। একইভাবে ভাঙাচোরা রাস্তা সংস্কারেও তিনি উদ্যোগী হয়েছেন।
কোনো এলাকার ছোট একটি রাস্তা কিংবা কালভার্ট স্থানীয় মানুষের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ—তা বোঝা যায় যখন সেই পথ দিয়েই প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ ও সাধারণ নাগরিকদের চলাচল করতে হয়। সেই বাস্তবতা থেকেই মানুষের দুর্ভোগ কমাতে তাঁর এই উদ্যোগ।
স্বাস্থ্যসেবার সংকটে মানুষের পাশে
পাথরঘাটার স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা ও সংকটের বিষয়েও সোচ্চার ছিলেন বদিউজ্জামান শাহেদ।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট, বিদ্যুৎ সমস্যা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দাবিতে তিনি মানুষের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে অংশ নেন। পাথরঘাটার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দাবিতে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনেও মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন তিনি।
একজন জনপ্রতিনিধি না হয়েও এলাকার মানুষের মৌলিক অধিকার ও প্রয়োজনীয় সেবার প্রশ্নে সামনে থেকে কথা বলা তাঁর জনসম্পৃক্ততার গুরুত্বপূর্ণ দিক।
নিরাপদ সড়কের জন্য মাঠে
সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতেও সক্রিয় ছিলেন বদিউজ্জামান শাহেদ।
পাথরঘাটার সড়কের দুই পাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার করার মতো উদ্যোগে তিনি সম্পৃক্ত হয়েছেন। সড়কের পাশে অতিরিক্ত ঝোপঝাড় অনেক সময় চালকদের দৃষ্টিসীমা কমিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই নিরাপদ চলাচলের পরিবেশ তৈরিতে এমন উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জন্য সরাসরি উপকারী।
‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁর বক্তব্য ও অংশগ্রহণ ছিল দৃশ্যমান।
সবুজ পাথরঘাটার প্রত্যয়ে বৃক্ষরোপণ
মানুষের পাশাপাশি পরিবেশের প্রতিও তাঁর মনোযোগ রয়েছে। পাথরঘাটা থানা চত্বরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন তিনি।
একটি গাছ লাগানো শুধু একটি দিনের কর্মসূচি নয়—এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিবেশ রক্ষার একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পরিবেশ সচেতনতাকে যুক্ত করাও তাঁর ইতিবাচক উদ্যোগগুলোর একটি।
শিক্ষার পরিবেশ নিয়েও সোচ্চার
শিক্ষা একটি সমাজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। সেই শিক্ষার পরিবেশ ও মান নিয়ে পাথরঘাটা কে এম সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে ঘিরে আয়োজিত মানববন্ধনেও অংশ নেন বদিউজ্জামান শাহেদ।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবির সঙ্গে তিনি সংহতি প্রকাশ করেন। শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুন্দর, নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি নিয়ে সামাজিকভাবে কথা বলাও তাঁর জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডের অংশ।
মানুষের সমস্যাকে নিজের সমস্যা মনে করাই মানবিকতার পরিচয়
বদিউজ্জামান শাহেদের কর্মকাণ্ডের দিকে তাকালে একটি বিষয় স্পষ্ট—শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, স্থানীয় মানুষের বাস্তব সমস্যা নিয়েও তিনি মাঠে থাকার চেষ্টা করেছেন।
কখনো ঝুঁকিপূর্ণ কালভার্ট মেরামত, কখনো রাস্তা সংস্কার; কখনো স্বাস্থ্যসেবার দাবিতে মানববন্ধন, আবার কখনো নিরাপদ সড়কের জন্য সচেতনতা সৃষ্টি—বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জনস্বার্থের কাজে তাঁর উপস্থিতি দেখা গেছে।
এর পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ ও শিক্ষার পরিবেশের মতো বিষয়েও তিনি সম্পৃক্ত হয়েছেন। ফলে তাঁর পরিচয়ের সঙ্গে রাজনীতি থাকলেও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পরিসরটি শুধু রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নয়।
রাজনীতির বাইরের বদিউজ্জামান শাহেদ
একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে শুধু তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দিয়ে বিচার করলে তাঁর ব্যক্তিত্বের অনেকটাই অদৃশ্য থেকে যায়। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা, এলাকার সমস্যা নিজের চোখে দেখা এবং সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার মধ্য দিয়েই একজন মানুষের সামাজিক পরিচয় গড়ে ওঠে।
বদিউজ্জামান শাহেদের ক্ষেত্রেও সেই দিকটি গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি পাথরঘাটার বিভিন্ন জনস্বার্থের বিষয়ে কথা বলেছেন, মানুষের দাবির সঙ্গে মাঠে থেকেছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে নিজের উদ্যোগে বাস্তব কাজেও যুক্ত হয়েছেন।
পাথরঘাটার মতো উপকূলীয় জনপদে যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ ও নিরাপদ সড়ক—এসব কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়; এগুলো মানুষের প্রতিদিনের জীবন ও ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত। এসব বিষয়ে যে মানুষ নিজের অবস্থান থেকে কাজ করেন, তাঁর সেই ভূমিকা রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরেও মূল্যায়নের দাবি রাখে।
মানুষের জন্য কাজই সবচেয়ে বড় পরিচয়
বদিউজ্জামান শাহেদের জীবনের প্রতিটি ব্যক্তিগত অধ্যায়ের পূর্ণাঙ্গ তথ্য হয়তো জনসমক্ষে নেই। কিন্তু তাঁর প্রকাশ্য কর্মকাণ্ডের একটি দিক পরিষ্কার—মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বিভিন্ন সময়ে জনকল্যাণমূলক কাজে যুক্ত হয়েছেন।
রাজনীতির পরিচয় তাঁকে পরিচিত করেছে, কিন্তু মানুষের জন্য কাজ করার চেষ্টা তাঁকে দিয়েছে ভিন্ন একটি পরিচয়।
শেষ পর্যন্ত একজন মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় তাঁর পদ-পদবি নয়—মানুষের প্রয়োজনে তিনি কতটা পাশে দাঁড়িয়েছেন, সেটিই তাঁর প্রকৃত পরিচয়ের অন্যতম মাপকাঠি। আর সেই জায়গা থেকেই পাথরঘাটার বদিউজ্জামান শাহেদকে রাজনীতির বাইরেও একজন মানবিক ও সমাজসচেতন মানুষ হিসেবে দেখার সুযোগ রয়েছে।