সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, কিশোরগঞ্জ ভৈরব সার্কেল এর মাদকবিরোধী অভিযানে ২০০০(দুই হাজার) ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারপূর্বক ০১ জনকে আটক করে নিয়মিত মামলা দায়ের। গোবিন্দগঞ্জে কাটাখালী ও নলেয়া নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ কালিয়াকৈরে অভিযান: ১১০টি কারেন্ট ও রিং জাল জব্দ, পুড়িয়ে ধ্বংস আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে উন্মুক্ত হচ্ছে ‘বনের রানী’ সুন্দরবন ফের উন্মুক্ত ‘বনের রানী’ সুন্দরবন, নতুন আশায় বনজীবী-পর্যটনসংশ্লিষ্টরা যশোরে জেলি পুশ করা ৩৬ কেজি চিংড়ি জব্দ, চালককে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা রাজশাহী মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ঠাকুরগাঁওয়ে ৫২ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার-১ ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈলে ভাড়া বাসা থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার। রাণীশংকৈল প্রেসক্লাব সম্পাদকের পদ ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও সাইবার সন্ত্রাসের অভিযোগ নেপথ্যে সেই কথিত জব্বার ধোপাঘাটা বাজারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মোবাইল কোর্ট: মেয়াদোত্তীর্ণ বালাইনাশক বিক্রির দায়ে জরিমানা

গ্রেপ্তারে সহযোগিতার ‘খেসারত’? অস্ত্র মামলার সাক্ষীকে ওই মামলাতেই ফাঁসানোর অপচেষ্টার অভিযোগ

  • প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
  • ৯৮ বার পড়া হয়েছে

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা:

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে একটি অস্ত্র ও মাদক মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অভিযানে সহযোগিতা করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক হয়রানি ও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া ইয়ার আলী তরফদারের সহযোগীরা মামলার সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন মামলায়, এমনকি সংশ্লিষ্ট অস্ত্র মামলাতেও জড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, অস্ত্র মামলার ২ নম্বর সাক্ষী মো. ইদ্রিস, তার ভাই মো. রওশন এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে হুমকি, সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা এবং নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এতে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার এজাহার, জব্দ তালিকা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ মার্চ ২০২৬ রাতে র‍্যাব-৬-এর একটি দল সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার শংকরপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ইয়ার আলী তরফদারকে একটি বিদেশি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল, একটি ওয়াকিটকি সেট এবং বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া অস্ত্র ও মাদক মামলায় মো. ইদ্রিস ২ নম্বর সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেন এবং তার ভাই মো. রওশন অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযানের পর থেকেই গ্রেপ্তার হওয়া ইয়ার আলী তরফদারের সহযোগী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি সাক্ষী ও তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে প্রতিশোধপরায়ণ আচরণ শুরু করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ‘লেডি ডাকাত’ নামে পরিচিত মাছুরা ও ‘টেমি হাফিজ’-এর নেতৃত্বে একটি চক্র সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা এবং অস্ত্র মামলাসহ বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মো. ইদ্রিস এবং সদস্য মো. রওশন (চেয়ারম্যান প্রার্থী) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করায় অভিযানটি সফল হয়। এরপর থেকেই তাদের এবং পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

মামলার নথি ও পুলিশের অপরাধ-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ইয়ার আলী তরফদার (পিতা: মৃত আব্দুল জব্বার তরফদার)-এর বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা ও খুলনার বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, ডাকাতি, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন এবং দ্রুত বিচার আইনসহ প্রায় ২৫টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মামলার সাক্ষীদের আদালতে সাক্ষ্যদান থেকে বিরত রাখতেই তাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, মামলার সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, অপরাধ দমনে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ও সাক্ষ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাক্ষীরা যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন এবং হয়রানির শিকার হন, তাহলে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন।

সম্প্রতি সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালত চত্বরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকেও মামলার সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, সাক্ষীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাক্ষী ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews